Browsing "Older Posts"
Browsing Category
"
SPORTS
"
ফিফার কর্মকাণ্ড এবং এর কর্ণধার সেপ ব্ল্যাটারের তিনি কড়া সমালোচক। তাঁর বাক্যবাণে প্রায়ই বিদ্ধ হতে হয় ফিফার সভাপতিত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়া ব্ল্যাটারকে। ডিয়েগো ম্যারাডোনা প্রায়ই বলেন, একবার ফিফার দায়িত্ব পেলে ফুটবলের চেহারাই পাল্টে দেবেন তিনি। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি সেই সুযোগ পেতেও পারেন হয়তো। ম্যারাডোনার এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু জানিয়েছেন, ফিফা সভাপতি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আর্জেন্টিনার ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক।
১৯৯৮ সাল থেকে ফিফা সভাপতির দায়িত্বে থাকা ব্ল্যাটারের বিরুদ্ধে বহুদিন ধরেই উচ্চকণ্ঠ ম্যারাডোনা। গত মাসে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে ফিফার সাত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার গ্রেপ্তার এবং এর পর জুরিখে ফিফার সদর দপ্তরে সুইস পুলিশের নজিরবিহীন অভিযান হইচই ফেলে দিয়েছিল ফুটবল-দুনিয়ায়। তবে ডামাডোলের মধ্যেই নির্বাচনে জিতে পঞ্চমবারের মতো ফিফা সভাপতি হয়েছিলেন ব্ল্যাটার। যদিও তার চার দিন পর সবাইকে বিস্মিত করে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।
আগামী ডিসেম্বরে ফিফার কংগ্রেসে পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন হতে পারে, যে নির্বাচনে দেখা যেতে পারে ম্যারাডোনাকে। আর্জেন্টিনার সাবেক অধিনায়ক ও কোচের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, উরুগুয়ের লেখক-সাংবাদিক ভিক্টর হুগো মোরালেস টুইটারে জানিয়েছেন, ‘ম্যারাডোনা আমাকে বলেছেন যে তিনি ফিফা সভাপতি নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন। এবং সবাইকে এটা জানানোর অনুমতিও দিয়েছেন আমাকে।’ টুইটারে আরেকটি বার্তায় মোরালেসের মন্তব্য, “ফিফা নির্বাচনের প্রার্থিতা নিয়ে তাঁর সঙ্গে আলোচনা করার সময় ম্যারাডোনা শুধু দুই শব্দে ‘আমি প্রার্থী’ বলে আমাকে জানিয়েছেন।”
গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে সাত গোলে হেরে যাওয়ার দুঃখ ব্রাজিলভক্তরা কখনোই হয়তো ভুলতে পারবে না। সেদিন অবশ্য দলের সেরা তারকাকে ছাড়াই খেলতে হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। কোয়ার্টার ফাইনালে কলম্বিয়ার ডিফেন্ডার হুয়ান কামিলো জুনিগার মারাত্মক ফাউলে কোমর ভেঙে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গিয়েছিল নেইমারের। সেদিন ২-১ গোলে জিতে শেষ চার নিশ্চিত করলেও জার্মানির কাছে রীতিমতো নাকাল হতে হয়েছিল পেলের দেশকে। অনেক ব্রাজিল-ভক্তের ধারণা, নেইমার খেলতে পারলে জার্মানির সঙ্গে এমন লজ্জায় পড়তে হতো না।

বিশ্বকাপের পরও কলম্বিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। গত সেপ্টেম্বরে দুঙ্গার দ্বিতীয় দফা কোচিংয়ের প্রথম ম্যাচেই ব্রাজিল ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় কলম্বিয়াকে। সেই ম্যাচে দুঙ্গার দলের জয়সূচক গোলদাতা আর কেউ নন—নেইমার! বিশ্বকাপ-দুঃস্বপ্ন পেছনে ফেলে টানা ১১ জয় দিয়ে ব্রাজিল আজ ভিন্ন চেহারার দল। সংখ্যাটা ‘১২’ হতে পারে, যদি বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় সকালে আবারও কলম্বিয়াকে হারাতে পারে তারা।
কোপা আমেরিকায় ব্রাজিল-কলম্বিয়া ম্যাচের আগে বিশ্বকাপ প্রসঙ্গ ঘুরেফিরে আসছেই। পেরুকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু করা ব্রাজিল কলম্বিয়াকে হারাতে পারলে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলবে। দুঙ্গা অবশ্য মনে করছেন তাঁর দল সহজে পার পাবে না, ‘বিশ্বকাপ থেকেই আমাদের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। কোপা আমেরিকাতেও ম্যাচটা ভীষণ কঠিন হবে। এবারের কোপা আমেরিকায় সব দলই অবশ্য খুব ভালো।’
প্রথম ম্যাচে ভেনেজুয়েলার কাছে হেরে যাওয়ায় কোপা আমেরিকার শুরুটা একদমই ভালো হয়নি কলম্বিয়ার। ব্রাজিলের কাছেও হার মানলে লাতিন আমেরিকার সেরা প্রতিযোগিতা থেকে তাদের বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাবে। তবে দুঙ্গা কলম্বিয়াকে এত তাড়াতাড়ি বাতিলের খাতায় ফেলে দিতে রাজি নন, ‘আমি মনে করি না সেই হার কলম্বিয়ার কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিতে কোনো পরিবর্তন আনবে। খানিকটা পরিবর্তন হয়তো আসতে পারে। তবে একটা ম্যাচ বা একটা হার কোনো দলে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে না।’
গতবারের কোপা আমেরিকার কোয়ার্টার ফাইনালে উরুগুয়ের কাছে পেনাল্টি শুটআউটে হেরে শেষ হয়েছিল আর্জেন্টিনার শিরোপা-জয়ের স্বপ্ন। এবারের আসরে গ্রুপ পর্বেই সেই হারের প্রতিশোধ নিয়ে নিলেন লিওনেল মেসিরা। সার্জিও আগুয়েরোর দারুণ এক হেডের সুবাদে ১-০ গোলের জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। ‘বি’ গ্রুপের অপর ম্যাচেও জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়েছে প্যারাগুয়ে।

প্রথম ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ড্র করে শুরুটা ভালো না হলেও ‘বি’ গ্রুপের দ্বিতীয় রাউন্ডের খেলা শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছে আর্জেন্টিনা। দুটি ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ের সংগ্রহ চার পয়েন্ট। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে আছে আর্জেন্টিনা। তিন পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে উরুগুয়ে। আর প্রথম দুটি ম্যাচ হেরে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় প্রায় নিশ্চিত জ্যামাইকার। তারা নিজেদের শেষ ম্যাচটি খেলবে এবারের অন্যতম ফেভারিট আর্জেন্টিনার বিপক্ষে।
প্রথমার্ধের খেলা গোলশূন্য থাকার পর আর্জেন্টিনার কাঙ্ক্ষিত গোলটি এসেছে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার সিটির দুই খেলোয়াড়ের দারুণ বোঝাপড়ায়। ৫৬ মিনিটে পাবলো জাবালেতার ক্রস থেকে দারুণ এক হেড করে উরুগুয়ের জালে বল জড়িয়েছেন আগুয়েরো।
২৫ মিনিটে মেসির ক্রস থেকে হেড করেও গোল করার দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন আগুয়েরো। কিন্তু তাঁর সেই প্রচেষ্টা দারুণ দক্ষতায় রুখে দিয়েছেন উরুগুয়ের গোলরক্ষক ফার্নান্দো মুসলেরা।
ডাগআউটে দাঁড়িয়ে উত্তাপ ছড়িয়েছেন আর্জেন্টিনার কোচ জেরার্দো মার্তিনো। ৩১ মিনিটের মাথায় রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পেয়েছিলেন লাল কার্ড। ম্যাচের বাকি সময়টা দূরে দাঁড়িয়েই দেখতে হয়েছে আর্জেন্টাইন কোচকে।